ডাকাতি ছেড়ে ফুল চাষ। ফুলই বদলে দিয়েছে জীবন। ক্লিক করে দেখুন সেই কাহিনী।

নিউজ ডেস্কঃ  এক সময় সে গ্রামগুলিতে সূর্য ডুবলে কেউ রাস্তায় বের হওয়ার সাহস দেখাত না, ডাকাতদের স্বর্গ রাজ্য ছিল, সেখানে এখন ফুলের রাজ্য। এখান থেকে গাড়ি ভর্তি করে ফুল গাছের চারা চলে যাচ্ছে বিহার , ঝাড়খন্ড, আসাম, ওড়িশ্যা, অন্ধ্রপ্রদেশে। বর্ধমানের পূর্বস্থলীর ডাকাত গ্রাম এখন ফুলের গ্রাম।

১৯৫৫ সাল লাগাদ  নদীয়ার সীমান্তবর্তী পূর্বস্থলী, পারুলিয়া , জাহানগর এলাকা ছিল দুষ্কৃতিদের আতুর ঘর।  এই অঞ্চলের পরিচিত ছিল ডাকাত গ্রাম নামে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকত। পরিবর্তন এল কয়েকজন উদ্যোমি কৃষকের হাত ধরে। তাদের জমিতে  বেগুন আর লঙ্কা চাষ করলেন ।  যারা রাতে চুরি ডাকাতি করত তাদেরকেই বুঝিয়ে  চাষের কাজে লাগালেন। এবার পরিবেশের পরিবর্তন হল। সবজির পাশাপাশি ফুলের চাষ শুরু হল সেখানে। তাতে লাভ বেশি হওয়ায় অনেকেই ফুল চাষ করতে লাগলেন।  যে হাতে টাকা পয়সা ছিনতাই চলত সে হাতেই সুগন্ধি ফুল ফুটল। গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ক্যালেন্ডুলার সৌন্দর্যে চারিদিক ভরে গেল।

স্থানীয় কৃষক শঙ্কর দত্ত জানালেন, সেই সময়কার আতঙ্ক আজ নেই।  এখন এখানকার চাষিরা বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে এই চাষকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।  অনেকেই সরকারী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।   নিশ্চিত লাভজনক এই চাষ সকলকে উৎসাহিত করেছে। এখন প্রায় সাড়ে চারশো বিঘা জমিতে ফুল চারা চাষ হচ্ছে এখানে।  বাংলা ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে চাহিদা বেড়েছে এখানকার ফুলের চারার। পূর্বস্থলীতে কৃষকরা  ধান বা আলু চাষের থেকেও বেশি লাভ করছেন ফুল চাষ করে। বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন কৃষকরা । পূর্বস্থলীর কৃষকরা বিকল্প চাষের পথ দেখাচ্ছেন অন্যদের।

*** প্রতি মুহূর্তে ‘হাইলাইস বেঙ্গল’ এর নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ Like  করুন।