বর্ধমানে ঝুলন্ত ব্রীজ

পত্রলেখা চন্দ্র,হাইলাইটস বেঙ্গল.কম : ভারতবর্ষের ইতিহাসে কার্যতই প্রথম। ভারতীয় রেলের ইতিহাসেও প্রথম দীর্ঘ ১৮৮.৪৩ মিটার কোনো রেল লাইনের ওপর ঝুলন্ত ব্রীজ। কয়েকমাসের মধ্যেই ভারতবর্ষের সেই ইতিহাসের সাক্ষী থাকছে বর্ধমানবাসি। হাওড়া ব্রিজের আদলে তৈরি বর্ধমান শহরে রেল লাইনের উপর নতুন ফোর লেন ওভারব্রীজের কাজ প্রায়  শেষ। আগামী কয়েকমাসের মধ্যেই শেষ হলে তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন জানিয়েছেন, রেল ব্রীজের কাজ শেষ পর্যায়ে। ব্রীজের দুপাশে এ্যাপ্রোচ রোড তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এই ধরণের  ব্রীজ গোটা ভারতবর্ষের মধ্যেই নজীরবিহীন। শুধু তাই নয়, এই ওভারব্রীজ চালু হয়ে গেলে বর্ধমান সহ পার্শ্ববর্তী জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার যেমন উন্নতি হবে তেমনি আর্থ সামাজিক পরিকাঠামোই অনেকটা উন্নতি হবে।  তিনি জানিয়েছেন, মূল ব্রীজ তৈরীর জন্য অর্থ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এ্যাপ্রোচ রাস্তা তৈরীর জন্য অর্থ দেবে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে, রেল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয় করে এই ঝুলন্ত ব্রীজ তৈরী করা হয়েছে। ভারতবর্ষ তথা ভারতীয় রেলের ইতিহাসে রেল লাইনের ওপর দিয়ে এই ধরণের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রীজ এই প্রথম। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ওরলি সি লিঙ্কে এই ধরণের একটি ঝুলন্ত ব্রীজ থাকলেও তা বর্ধমানের ব্রীজের তুলনায় অনেকটাই ছোট। রেল লাইন থেকে সেতুর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ছয় মিটার। ব্রীজের দুপাশে দুটি পিলার থেকে ব্রীজটিকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকটাই হাওড়া ব্রীজের মতই। সেতুটি নির্মাণে দুবছরের সময়সীমা দেওয়া ছিল। বর্ধমান কাটোয়া পুরনো রেল ওভারব্রীজটি ক্রমশই ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়েছিল।  ক্রমশই এর ওপর চাপও বাড়ছিল। অবশেষে  আর কিছু দিনের মধ্যেই চালু হবে এই ব্রিজটি। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে তো বটেই একইসঙ্গে বর্ধমানের ইতিহাসেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।