পরিবার ছেড়ে চলে গেলেও ছাড়তে পারছেন না হাসপাতালের কর্মীরা। এই কাহিনী চোখে জল আসবে। ক্লিক করে পড়ুন

কৌশিক দত্ত, কাটোয়াঃ   দেখতে দেখতে প্রায় ২০ দিন কেটে গেলো। ছোট্ট ফুটফুটে সূর্য এখন কিছুটা হলেও বড় হয়েছে।যখন এসেছিল তখন সদ্যজাত। ট্রেনের কামরা থেকে ঠাই হয় কাটোয়া হাসপাতালের স্পেশাল কিউর বেডে। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মীদের সেবা যত্নে তার কেটে গেল এই কটা দিন। কিন্তু আবার তার ঠিকানা বদল হল।নিজেদের সন্তান স্নেহে পালন করা সূর্যকে তারাই তুলে দিলেন চাইল্ড লাইনের হাতে। কিন্তু কেন?

সে দিন ছিল ৩রা নভেম্বর। সন্ধ্যায় যখন কাটোয়া স্টেশনে আজিমগঞ্জ লোকাল এসে থামল তখন ট্রেনের মধ্যে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় স্থানীয়রা। তারা ট্রেন কামরায় ছোট্ট ফুটফুটে শিশুসন্তানকে পড়ে থাকতে দেখে। ওই কামরায় তখন কেউ ছিল না। তারা খবর দেয় রেল পুলিশকে।জিআরপি শিশুটিকে উদ্ধার করে কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই নব শিশুর আগমনে হাসপাতাল যেন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিলো।তাই তার নাম রাখা হয় ‘সূর্য’। সকলের মধ্যমণি ছিল ‘সূর্য’।নার্সরাই তাকে সন্তানস্নেহে পালন করে।তাদের কোলেতেই সারাদিন কেটে যেত। তবে এভাবে সূর্যকে কাছ ছাড়া করতে হবে ভাবেনি হাসপাতালের নার্সরা। কিন্তু করারও তো কিছু নেই। সরকারি নিয়ম মেনে ‘সূর্য’কে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেওয়া হল। তাকে রাখা হবে হোম। এটাই তার এখন থেকে তার নতুন ঠিকানা। এক মা তাকে ছেড়ে চলে গেলেও অসংখ্য মা ‘সূর্য’কে নতুন করে বাঁচার রসদ যুগিয়েছে। তাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।তাই বিদায়বেলায় ‘সূর্য’র নতুন মায়েদের চোখের জল বাঁধ মানেনি। এদিন তাদের কাছে ‘সূর্য’ ছিল হিরো, ‘সূর্য’ ছিল সেলিব্রিটি। তাই সকলে ‘সূর্য’কে নিয়ে সেলফি তোলার সুযোগও হাতছাড়া করেনি। স্মৃতি হিসাবে এটাই হয়তো তাদের এ্যালবামে রাখা থাকবে। ‘সূর্য’ সুস্থ থাকুক- শুভ কামনায় টিম ‘হাইলাইটস বেঙ্গল’।

প্রতি মুহূর্তে ‘হাইলাইস বেঙ্গল’ এর নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ Like  করুন।

child3

child1

child2

child4