নজির গড়লো বর্ধমানের এই যুবকরা। প্রমাণ করলো এভাবেও পাশে থাকা যায়

 ওরা কেউ সরকারি চাকরি করে কেউ বা বেসরকারি। আবার কেউ বেকার। ছয় যুবক প্রমান করলো সৎ কাজে মানুষ পাশে থাকে।

অয়ন দাঁ, অয়ন চ্যাটার্জী , শুভাশিস ঘোষ, শুভজিৎ রক্ষিত, রাকেশ হাটি, দেবরাজ বাসু। বর্ধমানের এই ছজন বন্ধু সবাই নিজের কাজ সেরে সন্ধ্যায় বর্ধমান সংস্কৃতি মঞ্চের পাশে একটি চায়ের দোকানে আড্ডায় বসত। করোনার জেরে চলছে লক ডাউন। তাঈ সবাই এখন গৃহবন্দী। তবুও তাদের কিছু করার নেশা জাগে ঘরে বসেই । নিজেদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে আইডিয়াটা তৈরি করে। রাজ্য রিলিফ ফান্ডে কিছু দান করার পরিকল্পনা করে তারা। হোয়াটস্যাপের গ্রুপে গ্রুপে ও ফেসবুকের টাইম লাইনে তাদের ছিলো একটি ছোট্ট আর্জি। ভেবেছিল সামান্য যা জোগাড় হবে তা দান করবে রিলিফ ফান্ডে। কিন্তু মাত্র 2 দিনে লক্ষাধিক টাকা জোগাড় হয়। তাদের বিশ্বাস করে অনেক বন্ধু পরিচিতরা টাকা দেয় নির্দিষ্ট একাউন্টে। উঠে যায় লক্ষাধিক টাকা। বিন্দু বিন্দু জলে সিন্ধু- এই প্রমাদকে সত্যি প্রমান করলো। পূর্ব বর্ধমান শাসকের কাছে এক লক্ষ এগারো হাজার একশো এক টাকা দান করলো তারা।

কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়, সরকারি খাতায় নথিভুক্ত কোন স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা নয়। দেবা’র চায়ের ঠেকের ‘ঠেকতুতো’ ভাই বলা হয় এদের।
জীবিকার ঠেলা ঠেলতে ঠেলতে রোজ সন্ধ্যায় ফুরসতে বা কখনো সপ্তাহান্তে  জড়ো  দেবা’র চায়ের দোকানে আড্ডায়।
দেবরাজ-অয়ন শুভাশীষদের মস্তিষ্ক প্রসূত সেই আর্জি, ভাবনায় যে এইরকম সাড়া  পড়বে তা তারা কল্পনা করতে পারেনি। এতে অনুপ্রানীত তারা। তারা জানিয়েছেন , মোট ১৬৭ জন তাদের টাকা দান করেছেন। সকলকে তারা ধন্যবাদ জানিয়েছেন । আগামী দিনে আরো কাজ করতে চায়। তারা আরো জানায় যে এতদিন তারা বাড়ি থেকে বের হয় নি। আজ সাহায্য দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছে। আবার তারা ঘরেই থাকবে লকডাউন এর জন্য। আবার ভালো কাজ করার ব্লুু প্রিন্ট তৈরি করবে। বর্ধমানের এই ছয় যুবক।

আপডেট খবর জানতে ‘হাইলাইটস বেঙ্গল’ ফেসবুক পেজ লাইক করুন। এবং ‘হাইলাইটস বেঙ্গল নিউজ’ ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।