প্রাচীন এই কালির দূর্গার রূপ। রয়েছে অবাক করা কাহিনী। ক্লিক করে পড়ুন

প্রদীপ সিদ্ধান্ত, বর্ধমান:   দেবী কালী রুপে পূজিতা হলেও আদতে তার রুপ দুর্গা কালী রুপি । বড়মার প্রতিমা প্রকৃত অর্থেই নজরকাড়া। গনেশ , কার্তিক , লক্ষী ও সরস্বতীর সঙ্গে দুই পড়ি জয়া ও বীজয়াকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠিতা দুর্গা কালী রুপি বড়মা। পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষের ওয়াড়ি গ্রামে হয়ে আসছে এই দেবীর পুজো। 

কথিত আছে প্রায় পাঁচ শো  বছর আগের বর্গী হামলায় নিজের আশ্রয় হারাতে হয়েছিল ওঁয়াড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের আরাধ্য দেবী বড়মাকে । শ্মশান সংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় ঠাঁই হয়েছিল বড়মার । দীর্ঘ দিন সেখানেই তিনি পড়েছিলেন । স্বপ্নে দেবী এই গ্রামের বাসিন্দা বুদ্ধদেব সরকারকে তাঁর দুরাবস্থার কথা জানান । এরপরেই দেবীকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে বুদ্ধদেব বাবু প্রথম পুজোপাঠ শুরু করেন । পরে মন্দির গড়ে বড়মাকে প্রতিষ্ঠা করা হয় । সেই থেকে প্রতি বছর কার্তিকেয় আমাবস্যা তিথিতে কালী পুজোর দিন ওঁয়াড়ি গ্রামে ঘটাকরে হয়ে আসছে বড় মায়ের আরাধনা ।

গ্রামে প্রবীনদের কথায় জানাগেছে , ওঁয়াড়ি গ্রামের একপাশে ছিল শ্মশান ঘাট । সেখানে নিজের পোষা গরু চরাতে যেতেন বুদ্ধদেব । গরু চরাতে চরাতে একদিন সেখানেই বুদ্ধদেব ঘুমিয়ে যায় । বড়মা স্বপ্নে তাকে দেখাদেন । বড়মা বুদ্ধদেবকে বলেন , বর্গী হামলায় তার সবকিছু তছনছ হয়েগেছে । বর্গীরা সব মন্দির ধ্বংস করেদিয়েছে । নিজের দুরাবস্থার কথা বুদ্ধদেবকে জানিয়ে বড়মা বলেন , তিনি খুব কষ্টে রয়েছেন । বড়মার নির্দেশ দিয়ে বুদ্ধদেবকে বলেন , ‘আমাকে শ্মশান থেকে উদ্ধার করে নিয়েগিয়ে তোর বাড়িতে প্রতিষ্ঠা কর। এই সময় বুদ্ধদেব মাকে বলেন , আমি নিজেই দুবেলা খেতে পাইনা । তোমাকে প্রতিষ্ঠা করে কি খাওয়াবো ? তখন দেবী বুদ্ধদেবকে জানিয়েদেন সামান্য চাল কলাইভাজা আর একটু চিনি দিবি তা দিয়েই আমার খাওয়া হয়েযাবে । একই সঙ্গে বড়মা নির্দেশদিয়ে বুদ্ধদেবকে বলেছিলেন , লক্ষী , সরস্বতী , কার্তিক ও গনেশেও দুরাবস্থায় রয়েছে । আমার সঙ্গে ওদেরও প্রতিষ্ঠাকরে পুজো করবি । বড়মার সেই নির্দেশ মেনেই বুদ্ধদের পুজোপাঠ শুরু করে । সেই থেকে গনেশ , কার্তিক , লক্ষী ও সরস্বতীকে সঙ্গে নিয়েই দুর্গা কালী রুপে ওঁয়াড়ি গ্রামে পূজিতা হয়ে আসছেন বড়মা ।’

বড়মায়ের পুজোয় একদা মোষ বলি হত ।  সেই সময়ে  প্রতিমার সামনে লাঠি খেলায় মাতোয়ারা হতেন ওঁয়াড়ি গ্রামের যুবকরা । এখন মোষ বলিদান আর না হলেও সেই প্রথা মেনে কালীপুজোর দিন বড়মার সামনে হয় লাঠি খেলা ।

পূর্বে গ্রামের সরকার বাড়িতে পূজিতা হতেন বড়মা । এখন তিনি পূজিতা হন ওঁয়াড়ি গ্রামের সার্বসাধারণের বড়মা রূপে । দেবীর মন্দিরটিও তৈরি হয়েছে বিশাল আকারে ।  সারা বছর বড়মায়ের নিত্য সেবা ও কার্তীকেয় আমাবস্যা তিথির বিশেষ পুজোপাঠ হয় । পুজো সাতদিন ধরে চলবে ।

পুজারি তুষার বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন , তন্ত্র মতেই হয় বড়মায়ের পুজো । মায়ের পুজোর ভোগ অন্নে চাই চালকলাই ভাজা ও চিনি ।

পুজোর সাত দিন উৎসব মুখর থাকে সমগ্র ওঁয়াড়ি গ্রাম । এলাকায় বসে বিশাল মেলা । হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রা পালা ।

*** ‘হাইলাইস বেঙ্গল’ এর নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ Like করুন।
আরও খবর দেখতে google গিয়ে ক্লিক করুন- www.highlightsbengal.com

আপনি কি কবিতা বা গল্প লেখেন? পাঠান আমাদের। ‘হাইলাইস বেঙ্গল’’ এর বিশেষ বিভাগ ‘আপনার লেখা’ তে প্রকাশিত হবে। আপনার লেখা পৌঁছে যাবে বিশ্বের দরবারে। লেখা পাঠান এই ই-মেলে- highlightsbengal.news@gmail.com

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের সেরা মাধ্যম ‘হাইলাইস বেঙ্গল’। বিজ্ঞাপনের জন্য ফোন করুন- ৭৯০৮০০২২৪৮