দারিদ্রতার সাথে কঠিন লড়াই পূর্ব বর্ধমানের এই মেধাবী ছাত্রের। এগিয়ে যেতে চায় সে। ক্লিক করে দেখুন..

দারিদ্র্যের কশাঘাত উপেক্ষা করেই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হতে চায় জামালপুরের জয়

নিজস্ব সংবাদদাতা– কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ” প্রিয়তমাসু”কবিতায় লিখেছিলেন এক বাতিওয়ালার কথা। যে রাজপথে-পথে বাতি জ্বালিয়ে ফেরে কিন্তু নিজের কিন্তু নিজের ঘরে নেই যার বাতি জ্বালাবার সামর্থ্য। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের শুঁড়েকালনা গ্রামের বাসিন্দা জয় দে র ১৬ বছরের জীবনটাও যেন সেই বাতিওয়ালার মতই। ঘরে দারিদ্র্যের কশাঘাত আর কাটা পড়া ইলেকট্রিক এর লাইনের হার্ডল ডিঙিয়ে , দুবেলা দুমুঠো অন্যের সংস্থানে লড়াই করতে থাকা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর গরিব মানুষের সেবার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হতে একদিন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় চমৎকার রেজাল্ট করা জয়। আর তার এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন পিসি কোজাগরী দে সহ গোটা পরিবার ।

পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের শুঁড়েকালনা গ্রামের বাসিন্দা জয় দে এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫৯৯ নম্বর পেয়ে সকলকে কার্যতঃ তাক লাগিয়ে দিয়েছে। তার বাবা মধুসূদন দে খবরের কাগজ বিক্রি করে কোনোক্রমে সংসার চালান। মা মন্দিরা দে কিছু সহায়তা করেন। কিন্তু তাতে এই হতদরিদ্র পরিবারটির দুর্দশা ঘোচেনি। সামান্য এক চিলতে ঘরে মাথা গুঁজে রয়েছে জয় ও তার পরিবার। সেই অবস্থাতেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো নম্বরের জন্য লড়াই চালাতে থাকে জয়। নিত্য অভাবকে সঙ্গী করে চলা এই মেধাবী ছাত্র শুধু পড়াশোনাকেই করে তুলেছিল তার ধ্যানজ্ঞান। দরিদ্র বাবা স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের মুখে দুবেলা-দুমুঠো ভাত তুলে দিতেই খেয়েছেন হিমশিম। জয়ের পিসি কোজাগরী দে হায়দ্রাবাদ বিমানবন্দরে কর্মরতা। তিনি জানান, আমি দাদাকে বলেছিলাম যে করেই হোক জয়ের পড়াশুনো চালাতেই হবে। বস্তুত জয়ের পড়াশুনো চালাতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে অনেকটাই এগিয়ে আসেন কোজাগরী। তিনি বলেন আমাদের সকলের খুব ইচ্ছে ভাইপো ডাক্তার হোক। বংশের মুখ উজ্জ্বল করুক। গরীবের ভগবান হোক॥ মাধ্যমিকে জয় এত ভালো ফল করবে তা আমরা কেউ ভাবি নি। যখন করেছে , তখন আমরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। কিন্তু ওর সংসারে বড় অভাব। তাই প্রশাসন, পঞ্চায়েত ও সহৃদয় মানুষেরা যদি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে জয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। পরীক্ষার কিছুদিন আগে বিল দিতে না পারার কারণে জয়ের বাড়ির বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়। সেই সময় জয় আমাদের বাড়িতে এসে পড়াশুনো করত। আমরা কোনদিনই ওকে অহেতুক আড্ডা মারতে দেখিনি। জয়ের বাবা মধুসূদন দে বলেন, আমি খবরের কাগজের হকারি করে কোনোক্রমে সংসার চালাই। বিজ্ঞান শাখায় ছেলের পড়াশুনা চালানোর খরচ যোগানোর সামর্থ্য নেই আমার । যে বয়সে পৌঁছেছি তাতে নতুন করে অন্য কোন পেশায় যেতেও পারবোনা। এখন সরকার ,প্রশাসন ও পঞ্চায়েত যদি এগিয়ে আসে তাহলে জয়ের পড়াশুনো চালাতে সুবিধে হবে। জয়ের দিদিও স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়ে দারিদ্র্যের কারণে সেভাবে কলেজ যেতে পারে নি। তাই সকলের কাছে আমার অনুরোধ জয়কে সাধ্যমতো সহায়তা করুন। জয়ের মা মন্দিরা দে বলেন , আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি। প্রতিটা দিন লড়তে হচ্ছে দারিদ্র্যের সঙ্গে।সেখানে দাঁড়িয়েও ছেলেটা মাধ্যমিকে এতো ভালো ফল করেছে দেখে খুব আনন্দ পাচ্ছি , আবার সংশয়ও হচ্ছে এই ভেবে যে , ওর ভবিষ্যৎ পড়াশুনো চালানোর খরচ জোগাড় করতে পারব কিনা সে নিয়ে । জয় নিজে বলে, আমি জীবনে অনেক বড় হতে চাই। বিজ্ঞান শাখায় পড়াশুনা করে চিকিৎসক হতে চাই। । বাবা-মার পাশে দাঁড়াতে চাই । চিকিৎসক হয়ে গরীব মানুষের সেবা করতে চাই। পিসি কোজাগরীর আক্ষেপ , ছেলেটাকে যদি পড়াশোনার একটু ভালো পরিকাঠামো দেওয়া যেত তাহলেও হয়তো ও মাধ্যমিকের মেধা তালিকাতেও স্থান করে নিতে পারতো । আপাতত জয় ও তার পরিবার তাকিয়ে আপাতত জয় ও তার পরিবার তাকিয়ে প্রশাসন , পঞ্চায়েত ও সহৃদয় মানুষজনের মুখের দিকে , তার স্বপ্নপূরণের জন্য।