মানবরূপী কালি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। মা কালীর লোমহর্ষক কাহিনী। ক্লিক করে পড়ুন।

নদীয়ার কালীগঞ্জের হরিনাথপুরের বুড়িমার পুজো ঘিরে রয়েছে এক রোমহর্ষক কাহিনী। প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের প্রাচীন ভট্টাচার্য্য বাড়ির এই কালীপুজো। বিজয়া দশমীর দিন কাঠামো তৈরি শুরু হয়। একাদশীতে কাঠামোয় দেওয়া হয় মাটি। দীপান্বিতা অমাবস্যায় এই কালি বুড়িমা নামে পূজিতা হন।

জানা গেছে, বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার ঠাকুরদাস বিদ্যারত্ন এবং তার ভাই রাজারাম সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ থেকে নদিয়া আসেন। কালীগঞ্জের জুরানপুরে একটি বটগাছের নিচে ভাই রাজারাম সাধনা শুরু করেছিলেন। দাদা বিদ্যারত্ন তাই ভাইকে সংসারী করতে বিয়ের ব্যবস্থা করেন। শোনা যায় দেবী কালী রাজারামকে স্বপ্নাদেশে জানান তার স্ত্রী হয়ে এই বাড়িতে আসবেন তিনি। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার মহূলা গ্রামে বিয়ে হয় রাজারামের। কথিত আছে, বিয়ের পর নতুন বউ আমন্ত্রিতদের খাবার পরিবেশনের সময় ঘোমটা খুলে যায়। সেসময় নতুন বউয়ের দুই হাতেই খাবারের পাত্র ছিল। হঠাৎ আরো দুটি হাত ঘোমটা টেনে দেয়। এরপরই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে যান নতুন বউ। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তারপর থেকেই মাটির মূর্তি গড়ে ভট্টাচার্য্য বাড়িতে শুরু হয় মায়ের আরাধনা।

আগে ছাগ বলি হলেও বেশ কয়েক বছর সেই প্রথা বন্ধ।

তবে বর্তমান প্রজন্ম প্রাচীন ঐতিহ্য আর পরম্পরাকে বজায় রেখে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করেন বুড়িমা-র। আশপাশ এলাকার মানুষজন এখানে আসেন এই পূজা উপলক্ষে।

Copyright © 2020 Highlights Bengal

All Right Reserved