সাঁইবাড়ি স্মরণেও রাজনৈতিক বিতর্ক। ক্লিক করে দেখুন

 

ওয়েব ডেস্ক: সাঁইবাড়ি দিবসে বিতর্ক তৈরি হলো কংগ্রেসের অনুপস্থিতি ঘিরে ।  বুধবার ছিল সাঁইবাড়ি ঘটনার ৫১ বছর। এদিন সাঁইবাড়ি স্মরণে এলো না কংগ্রেস।

***’হাইলাইস বেঙ্গল’ এর নিউজ আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ Like  করুন।

১৯৭০ এর ১৭ মার্চ। বর্ধমানের প্রতাপেশ্বর শিবতলা লেনে তেলমারুই পাড়ায় ঘটেছিল  সাঁইবাড়ি হত্যাকান্ড। এই কংগ্রেস পরিবারের দুই সদস্য সহ এক গৃহ শিক্ষক খুন হয়েছিলেন সিপিএমের হাতে এমনটাই অভিযোগ। রাজ্যে  আলোড়ন ফেলেছিল এই ঘটনা। বরাবরই এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে আসছে কংগ্রেস। ২০১১ তে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসও সাঁইবাড়ি দিবস পালন করছে। কিন্তু ৫১ তম বছরে প্রথা ভাঙলো কংগ্রেস। তেল মারুই পাড়ার সাঁইবাড়ি সংলগ্ন শহীদ বেদীতে সাঁইবাড়ি দিবসে দেখা মিলল না কোন কংগ্রেস সদস্যের।

সাঁই পরিবারের সদস্যা তথা প্রাক্তন কাউন্সিলর উমা সাঁই জানিয়েছেন, সিপিএম রক্তাক্ত করেছিল সাঁইবাড়িকে। নির্বাচন তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে কংগ্রেস। তাই তারা আসবে কোন মুখে।

জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি স্বপন দেবনাথ বলেছেন, এখানে আসলে সিপিএম এই ঘটনায় অভিযুক্ত এটা প্রকাশ্যে বলতে হবে। কিন্তু যেহেতু জোট করেছে তাদের এ কথা বলতে হয় তো বারণ আছে। তাই আসেনি।

প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই পরিবারের অনেক সদস্যই বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাথে যুক্ত। এই পরিবারে গৃহবধূ বর্ধমানের প্রাক্তন কাউন্সিলর। অনুষ্ঠানে তাদের ডাকা হয়নি। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা দাবি জানিয়ে আসছেন, এই ঘটনার প্রকৃত দোষীদের সামনে আনতে। কিন্তু তা করেনি সরকার।

বর্তমানে সাঁইবাড়ি দিকে তাকালেই যেন সেই ইতিহাস জানান দেয়। বটের ঝুরি আকড়ে ধরেছে দেওয়ালকে। গোটা বাড়ী জুড়ে নৈশব্দ আর হাহাকার। পলেস্তারা খসে পড়েছে।

বর্ধমানের সাইবাড়ী হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর পরও সেই স্মৃতি আজ টাটকা বাড়ির জীবিত সদস্যদের। এখনও সুবিচারের আশায় বুক বাঁধে সাঁই পরিবার।*

কি ঘটেছিল সেদিন*

এই বাড়িতে সেই দিন ছিল বাড়ির মেয়ের স্বর্ণলতার এক মাসের ছেলের নামকরনের অনুষ্ঠান। এমনই একটা আনন্দের দিনে হত্যালিলা চলে এই বাড়িতে। গৃহশিক্ষক জিতেন রায় সেই সময় বাড়ির পড়ুয়াদের প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় হাজার খানেক সি পি এম সমর্থকদের একটি মিছিল এই বাড়িকে ঘিরে ফেলে। চলে লাগাতার বোমা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বাড়িতে। মায়ের চোখের সামনেই তির টাঙি বল্লমের আঘাতে খুন করা হয় মেজ ছেলে প্রণব সাঁইকে। সেজ ছেলে মলয় সাঁইকেও ক্ষত বিক্ষত করা হয়। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মা মৃত্যায়ন দেবী মেয়ে স্বর্ণলতাকে বাড়ির মধ্যেই লুকিয়ে ফেলেন। তবে তার এক মাসের সন্তান এই রোষ থেকে রেহাই পায়নি। আগুনে ছুড়ে ফেলা হয় তাকে। মৃত্যায়ন দেবী কোনক্রমে এক মাসের অমৃতকে প্রাণে বাঁচায়। মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় মৃত্যায়ন দেবীর। এখানেই খুন করা হয় গৃহশিক্ষক জিতেন রায়কেও। বাড়ির বাকি সদস্যরা তখন প্রাণ বাঁচাতে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনার বছর খানেক পর বাড়ির বড় ছেলে পেশায় আইনজীবী নবকুমার সাঁইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। ঘটনায় অভিযোগ হয়েছিল সি পি এম এর দর্দ্দন্ডপ্রতাপ নেতাদের নামে।

২০১১ নির্বাচনের আগে এই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কথাও রেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর হাই কোটের প্রাক্তন বিচারপতি অরুণাভ বসুর নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেন। রেলমন্ত্রী থাকার সময় এই পরিবারের এক সদস্যকে রেলের চাকরিও দেন।

তবে এই বিশেষ দিনে সাঁইবাড়ি দিবসে শহীদ স্মরণে জেলা কংগ্রেসের গরহাজির নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে।