পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের মেয়ে দেবস্মিতা নাথ l বর্তমানে কাজের সুবাদে কলকাতাতেও থাকে l জন্ম থেকেই দুরারোগ্য সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত l ডাক্তারি শাস্ত্রে যার কোনো চিকিৎসা নেই l কিন্তু তাতেও দমেনি দেবস্মিতা l বরং সেই শারীরিক সমস্যাকে অতিক্রম করে কবিতার জগতে নিজেকে প্রতিষ্টিত করেছে l একদিন যে মেয়েটিকে সমাজের প্রতিটিক্ষেত্রে বাঁকা চোখে দেখা হতো, আজ তাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্য,দেশ ও বিদেশ l

তার অভিজ্ঞতার ঝুলিতে রয়েছে স্কুল জীবনের নানা দুর্বিসহ ঘটনা l যার কারণে ওই ঘটনাগুলি সে খুব একটা মনে করতে চায়না l সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ায় অঙ্গ সঞ্চালন দেরিতে হয় l দেবস্মিতার ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি l সে যে কোনোদিন পুরোপুরি সুস্থ হবে না তা ছোট বেলাতেই চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন l তবু মেয়েকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা যায় তারজন্য লড়াই করতে থাকেন তার বাবা-মা l ছোটবেলা থেকেই ফিজিওথেরাপি শুরু হয়েছিল l মেয়ে কি ভালোবাসে তা বোঝার জন্য বা অনুভব করার জন্য অঙ্কন,গান,কবিতা,সাঁতার অনুশিলনে দেওয়া হয়েছিল l শেষে মেয়ে কবিতার প্রেমে পরে l তিন বছর বয়সে সে কথা বলতে শুরু করে l তাকে একটি স্কুলে ভর্তি করা হয়l সেখানেই সে এক আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় রুমির ইচ্ছা বলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এবং সেই সূত্র ধরেই আবৃতির জগতে পথচলা শুরু হয় l বিভিন্ন্ শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছে কবিতার প্রশিক্ষণ নেওয়া,আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন এবং পুরস্কার অর্জন,রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী,পুজোর সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করা,দূরদর্শনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পাঠ লেগেই থাকতো l তবে
অনুষ্ঠানগুলি দেবস্মিতা বরাবর বসেই করে l

বারো বছর বয়সে ব্রততী
বন্দ্যোপাধ্যের কর্মশালায় যোগ দেওয়া থেকে শুরু করে ব্রততী পরম্পরায় প্রশিক্ষণ নেওয়া ও সেই সূত্র ধরে প্রদীপ ঘোষ, গৌরী ঘোষ,জগন্নাথ বসু,উর্মিমালা বসু প্রমুখ শিল্পীদের কাছে তালিম নিয়ে নিজেকে আরো মেলে ধরতে থাকে দেবস্মিতা।ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যের কর্মশালা ও ব্রততী পরম্পরায় প্রথম স্থান এবং পনেরো বছর বয়সে সারা বাংলা আবৃতি প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় দেবস্মিতা l চোদ্দ বছর বয়সে একটি টিভি চ্যানেল থেকে দেবস্মিতার অটোবায়োগ্রাফি বার হয় l যার নাম ছিল ‘ শাইনিং ষ্টার ‘l তার পর থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে অনুষ্টানের জন্য ডাক আসতে শুরু হয় l এই সময় বিভিন্ন নামি দামি কোম্পানির অ্যাড এ ভয়েস দেয়ার কাজ শুরু করে সে l ফলে যে অর্থ সে উপার্জন করেছে তা করোনা কালে বাবার হাতে তুলে দেয় দুস্ত মানুষের সাহার্যের জন্যে l ষোলো বছর বয়সে দেবস্মিতার প্রথম কবিতার অ্যালবাম ‘প্রণমি’ প্রকাশিত হয় ভাবনা রেকর্ডস থেকে l সেই সূত্র ধরেই প্রথম জাতীয় পুরস্কার আসে দেবস্মিতার ঝুলিতে এবং সাক্ষাৎ করার সুযোগ পায় তৎকালীন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সাথে l ‘প্রণমী’ অ্যালবাম এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে তার সূত্র ধরেই কলকাতায় প্রথম অনুষ্ঠানের সুযোগ আসে সুজাতা সদনে l তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে l একে একে রবীন্দ্র সদন ,রবীন্দ্র-ওকাকুড়া
ভবন,শিশির মঞ্চ,বাংলা একাডেমী,ত্রিগুণা সেন
মঞ্চ,বিড়লা একাডেমী ইত্যাদি মঞ্চগুলোতে
অনুষ্ঠান করার সুযোগ পায় l প্রথম এলবামের সূত্র ধরেই করোনা কালে
ডিজিটাল প্লাটফর্মে ৪৫০টি লাইভ অনুষ্ঠানের সুযোগ পায় দেবস্মিতা l
তার মধ্যে বেশ কতগুলি
আন্তর্জাতিক মানের এবং বেশ কিছু অনলাইন
ইন্টারভিউ নেওয়া হয় দেবস্মিতার l

মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই দেবস্মিতা ভূষিত হয় অগণিত সম্মানে l তারমধ্যে মনন সাহিত্য পত্রিকা, সিন্ধুরা একাডেমী অফ কালচার ,
বিভিন্ন জেলার ডিজিটাল
মিডিয়া, কলকাতার বিভিন্ন নিউস মিডিয়া,সেভ
হিউমান রাইটস,কাজী নজরুল ইসলাম সম্মান,
কলকাতা বইমেলা থেকে
শঙ্খ ঘোষ, বঙ্কিম চন্দ্র
চট্টোপাধ্যয় ইত্যাদি স্মৃতি সম্মান, শরত স্মৃতি সম্মান, শ্যামল স্মৃতি সম্মান,গীতাঞ্জলি সম্মান,
বি আর আম্বেদকর সম্মান,বিশ্ববাংলা সাহিত্য
সংস্কৃতি সম্মান, বিশ্ব
বাংলা নারী সম্মান, বাংলার গর্ব সম্মান,বকখালি সাহিত্য
উৎসব থেকে কবি শামসুল হক স্মৃতি সম্মান,
আসামের কৃষ্টি সম্মান,অসম বঙ্গ মৈত্রী
সম্মান, ভারত-বাংলাদেশ
মৈত্রী সম্মান, নেপাল- ভারত দলিত মৈত্রী সম্মান,
আন্তজাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মান, ইন্টারন্যাশনাল হিউমান
রাইটস ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড l এছাড়া আরো অনেক জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক মানের সম্মান ও রয়েছে
দেবস্মিতার ঝুলিতে l
এরই মধ্যে আরো তিনটি
রবীন্দ্র – নজরুল কবিতারl এত ব্যাস্ততার মধ্যেও সপ্তাহে একদিন করে অর্থনৈতিক
দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া কিছু শিশুদের পড়াশুনা ও
আবৃতি শেখায় l






